শ্রী কৃত্তিবাস গোসাঁই এর জন্মকথা
শ্রী কৃত্তিবাস গোসাঁই এর জন্মকথা
রচনায়:-সোহাগ সরকার
-------------------পয়ার -----------------------
দেবসোনা ঠাকুরাণী পতি পদ সেবে।
দীনবন্ধু হরি প্রেমে থাকে সদা ডুবে।।
নিস্কাম দেশেতে দীনা করে বসবাস।
কর্মগুনে হয়ে গেল হরি পদে খাস।।
দিনরজণী দু'নয়নে ঝরাইত জল।
চোখের কোনেতে ঘা দেখাত অবিকল।।
নিজের রচিত গান গায় নিশি ভোরে।
সারা রাত্রি গানে প্রেমে নিশি ভোর করে।।
হেরি নায় আমি চোখে করি অনুভব।
ভক্ত মুখে শুনে সদা করি অনুতাপ।।
সীতানাথ শ্রী অদ্বৈতের হুঙ্কার বলে।
যেমনি এসেছিল শ্রী গৌরনীলদ্বলে।।
যেখানেই হয় হরি নাম সংকৃর্ত্তন।
সেখানেই হরি শক্তির হয় আগমন।।
কার্তিক বৈরাগী ছিল অতিব সুজন।
তাহার গৃহেতে এল অশ্বিনী রতন।।
কাশিনাথ হৃদয়েতে কালীর বিরাজ।
পুত্ররূপে পেল ভবে কবি রসরাজ।।
মৃতুঞ্জয়ের মাতা মহা বৈষ্ণবী ছিল।
মৃতুঞ্জয় আর কন্যা জানকীরে পেল।।
গোলোক হীরামন মহানন্দ বদন।
হেন পুত্র পেল যারা কর্মের কারণ।।
শ্রী দীনবন্ধু গোঁসাই ছিল মহাভক্ত।
শ্রী হরি পুত্র দিল তাহার উপযুক্ত।।
প্রথমে জন্মিলেন কন্যা সুভনতারা।
হরি প্রতি ভক্তি অতি উজ্জ্বল চেহারা।।
কন্যা পেয়ে পতি সতি আনন্দ অন্তর।
নামে প্রেমে ডুবে থাকে দুয়ে নিরন্তর।।
এই মতে কিছু বর্ষ গত হয়ে গেল।
দীনবন্ধু পূনঃরায় ভ্রমনে চলিল।।
ঘরের বেড়ারপরে খড়িমাটি দিয়া।
আগাম সংবাদ এক গেলেন লিখিয়া।।
অতি সত্তর মম ঘরে আসিবে পুত্র।
হরি প্রেমে মত্ত রবে মম উপযুক্ত।।
এর পরে দীনবন্ধু ভ্রমনেতে গেল।
কিছুদিন ভ্রমি পুনঃ গৃহেতে ফিরিল।।
এদিকে দেবসোনা ছিলেন গর্ভবতী।
মনে প্রানে নিশি দিনে ডাকে বিশ্বপতি।।
অবশেষে শুভক্ষণ উপস্থিত হল।
শুভক্ষণে প্রিয় পুত্র প্রশব করিল।।
চব্বিশে ফাল্গুন তেরশ চুয়াত্তর সালে।
শুক্রবার ছিল দিন অতিব সকালে।।
সকাল সাতটায় হইল আগমন।
হরিভক্ত প্রিতে হরিবল মন।।
শুভ দিন শুভক্ষণ শুভ সে লগন।
শ্রী কৃত্তিবাস গোঁসাই জন্মিল যখন।।
বামা গনে হুলুধ্বনী দিল সপ্তবার।
উপস্থিত সবাকার আনন্দিত অন্তর।।
উজ্জ্বল কলেবর মায়াময় বদন।
দেবসোনা পুত্র পেয়ে আনন্দিত মন।।
দীনবন্ধু পুত্র হেরে আনন্দিত অতি।
বলে হরি তব ধন মোরে দিলে যদি।।
শ্রী হরি গোঁসাই সেদিন ধূলিয়াতে ছিল।
কাঠালিয়া যাবে বলে পাংশী ছারিল।।
দীনবন্ধু ত্বরা করি নদী তীরে যায়।
গুরু পদে পরে সাধু কেঁদে কেঁদে কয়।।
পুনঃ মহাপুরুষ এক এল ধূলিয়ায়।
এই মাত্র আবির্ভূত মম আঙ্গিনায়।।
গোস্বামী বলিল দীনা শোন দিয়া মন।
তারে লয়ে করিও কাঠালিয়া গমন।।
সে মহাপুরুষে চাই আমি দেখিবারে।
দীনা বলে যাব বাবা বলি তব ধারে।।
দীনা পুত্রের জন্মক্ষণ বিচার করিল।
কুস্টি করিয়া নাম কৃত্তিবাস রাখিল।।
ব্যাঘ্রের ছাল যেজন করে পরিধান।
কৃত্তিবাস বলে তারে শুন সর্ব্বজন।।
শিবের নাম তাইত কৃত্তিবাস হয়।
সেই নাম রেখে ছিল পিত্রিমহদয়।।
করণের ছান তারে পরাইয়া গেল।
পিত্রিধারা শিরে ধরে জনম কাটাল।।
হরি প্রেমে মত্ত থাকে গুরু কৃত্তিবাস।
গুরু পদে প্রেম ভক্তি সোহাগের আশ।।

Comments
Post a Comment